অন্যান্য আন্তর্জাতিক

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ৩০ লক্ষ বছরের সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে।

  • মানব সৃষ্টির পর লক্ষ লক্ষ বছরের মধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব এটিই সর্বোচ্চ।
  • মে মাসের ১০ তারিখ বিজ্ঞানীরা হাওয়াই দ্বীপে কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমাপ করেন। এখানে তারা কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর লেভেল ৪১৫(পিপিএম) পান যা গত বছর ছিল ৪১১(পিপিএম)।
  • তেল এবং কয়লার মত জীবাশ্ম জ্বালানীর মাধ্যমে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয় এ ছাড়াও গ্রীনহাউস থেকে সৃষ্ট উত্তাপে পৃথিবী এবং এর মহাসাগরকে উষ্ণ করে।
  • নতুন রেকর্ড-উচ্চ মাত্রায় CO2 মানব স্বাস্থ্য এবং প্রাকৃতিক বাসস্থানের উপর একটি বিপর্যয়মূলক প্রভাব ফেলবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

পৃথিবী সৃষ্টির পরবর্তীতে মানবজাতি সৃষ্ট এ কারনে মানবজাতি ও সৃষ্টিকুল আরও একটি বিপদজনক বিপযৃয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে যা পৃথিবী এর পূর্বে লক্ষ লক্ষ বছরেও এমন গরম ও দূষিত অবস্থার মুখোমুখী হননি।

হাওয়াইয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) রেকর্ড করে যা মানব সৃষ্টির পর প্রথমবারের মতো 415(পিপিএম) অতিক্রম করে। এর পূর্বে সর্বশেষ ৩০ লাখ বছর আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এই মাত্রায় কার্বন ডাই অক্সাইড ছিল। যখন পৃথিবীর তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এখনকার তুলনায় কয়েক মিটার বেশি ছিল এবং এন্টার্কটিকা মহাদেশ বনভূমিতে আচ্ছাদিত ছিল।

হাওয়াইয়ের Scripps Institution of Oceanography এর Mauna Loa Observatory  রেকর্ডকৃত কার্বন ডাই অক্সাইড ঘনত্ব 415.26 পিপিএম-তে পৌছেছে। এটি মানব সমাজের জন্য এক ভয়াবহ বার্তা বহন করে যা কিনা মানুষের জীবাস্ম জ্বালানী পোড়ানোর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে।  

আবহাওয়াবিদ Eric Holthaus টুইটারে লিখেছেন- “আমাদের পৃথিবীতে মানব ইতিহাসে প্রতমবারের মত বাতাসে CO2 ৪১৫ পিপিএম এর বেশী অবস্থায় রয়েছে।,,

“শুধু জানা ইতিহাস নয়, ১০,০০০ বছর আগের কৃষি আবিষ্কারের আগে, মানুষ সৃষ্টির পর লক্ষ লক্ষ বছরের মধ্যে এমন পৃথিবীর কথা আমাদের জানা নেই।,,মাত্র কয়েক বছর আগে বায়ুমন্ডলে কার্বন দূষণ 400 পিপিএম অতিক্রম করেছিল এবং এটি ২০১৭ সালে ৪১০ পিপিএম পৌঁছানোর জন্য অনেক বেশি সময় নেয় নি।

বস্তুত, বায়ুমণ্ডলে রেকর্ড পরিমান কার্বনের উপস্থিতি এবং বায়ুমন্ডল দূষিত করার কারনে বিজ্ঞানীরা ধারনা করেছিল যে ২০১৯ সালে বাতাসে কার্বনের পরিমান 415 পিপিএম পৌছাবে, কিন্তু তা এত দ্রুত হবে তা তাদের ধারনাতীত ছিল। এ মাসেই কয়েকবার কার্বন বৃদ্ধির পরিমান রেকর্ড ভংগ করে।  CO2 প্রোগ্রামের পরিচালক রালফ কিলিং বলেন, “গড় বৃদ্ধির হার বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।”

গত বছর পর্যন্ত  যেখানে কার্বন বৃদ্ধির হার ছিল ২.৫পিপিএম তা এখন বেড়ে দাড়িয়ে ৩পিপিএম এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। জীবাস্ম জ্বালানীর সর্বোচ্চ ব্যবহারের ফলে আমরা এখন একটি মাঝারি আকারের এলনিনো-র মুখোমুখি অবস্থান করছি।

সম্প্রতি ১৯১০ সালের হিসাবে, বায়ুমন্ডলীয় CO2 ৩০০পিপিএম এ পৌছেছিল – এটি হতে প্রায় 800,000 বছরের চেয়ে বেশি সময় লেগেছিল। কিন্তু লাগামহীন দূষণ মাত্রার কারনে বর্তমানে এক শতাব্দীতে আরও ১০০+ পিপিএম উঠে গিয়েছে।  

যদি আমাদের বায়ুমন্ডলে কার্বনের স্তর আরো ঘন হতে থাকে তাহলে তাপমাত্রা আমাদের বায়ুমন্ডলে আটকে থাকবে এর ফলে পৃথিবীর যে পরিবর্তন ঘটবে যা মহাকাশে অনেক দূর থেকে দেখা যাবে, যেমনটি লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে ঘটেছিল।

জলবায়ু গবেষণা অনুসারে, ২ ডিগ্রী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বছরে ২৫% দিন বেশি গরম এবং তাপ প্রবাহ থাকবে – যার ফলে মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য এবং ঝড়ের ঝুঁকির মধ্যে পরবে। এর ফলে প্রতি পাচ বছরে পৃথিবীর প্রায় ৩৭% মানুষ মারত্মক তাপপ্রবাহের মধ্যে পরবে, খরার সময়কাল বছরে ৪ মাস বৃদ্ধি পাবে, ৩৮৮ মিলিয়ন মানুষ মারাত্মক খরার মধ্যে পরবে এবং ১৯৪.৫ মিলিয়ন মানুষ পানির অভাবে পরবে।

চীনের রাজধানী বেইজিং-এ ভারী ধোঁয়ার মধ্য  দিয়ে যানবাহন চলছে

২৬ নভেম্বর-২০১৮, চীনের রাজধানী বেইজিং-এ ভারী ধোঁয়ার মধ্য  দিয়ে যানবাহন চলছে

ঝড় ও চরম আবহাওয়ার মতো সাইক্লোন এবং টাইফুন বৃদ্ধি পাবে, ঘনঘন দাবানল হবে এবং ফসল উৎপাদন কমে আসবে। বিলুপ্তির ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ১০ লাখ প্রজাতির প্রাণীর প্রাণহানি ঘটবে। তবে মশার উপদ্রব আরও বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে পৃথিবীর ২৭% মানুষ ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকবে। শ্বাষকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পরবে।

Leave a Comment