আন্তর্জাতিক

ইরান আমেরিকা যুদ্ধ কি আসন্ন?

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

ইরানকে একটি ‍‍”স্পষ্ট ও নির্ভূল বার্তা” দেয়ার জন্য মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী জাহাজ মেতায়েন করেছে।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেন, কিছু সমস্যার কারনে আগাম সর্তকতা হিসাবে তারা এটি মোতায়েন করেছেন। নাম গোপন রেখে একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার বলেন, মার্কিন বাহিনীর উপর সম্ভাব্য আক্রমনের তথ্যের উপর ভিত্তি করে যুদ্ধজাহাজটি মোতায়নে করা হয়েছে।

মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন
মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন

জনাব বোল্টন বলেন যে তারা “অযৌক্তিক শক্তি” সহ যে কোনও আক্রমণকে মোকাবেলা করবে।একটি প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে বা আমাদের সহযোগীদের উপর যে কোনও আক্রমনের সাথে ইরান সরকারের কাছে স্পষ্ট ও অনমনীয় বার্তা হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের নির্দেশে বিমানবাহী রনতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও টাক্সফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।‍‍” তিনি আরও বলেন, “ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চাইছে না, তবে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বা নিয়মিত ইরানী বাহিনী দ্বারা যে কোন আক্রমনের প্রতিক্রিয়া জানাতে আমরা প্রস্তুত।” এর আগে ইউরোপের সাথে যৌথ মহরায় জাহাজটি ইউরোপে অবস্থান করছিল এবং এপ্রিলের শেষের দিকে এটি ভূমধ্য সাগরের উেদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

যে রনতরীটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে সেটি ইরানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য হলেও তবুও এটি একটি সতর্কবার্তা। ভূমধ্যসাগরে মার্কিনীদের একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ও একটি বাহীনি পাঠানো অস্বাভাবাবিক কিছু নয়। এই অঞ্চলে ভূমি ও আকাশে আধিপত্য পূন:বহাল করার জন্য এটি একটি নিয়মিত মহরা মনে করা হচ্ছে।   

ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ইরানের উপর চাপ বাড়িয়ে তুলছে; ইরানী বিপ্লবী গার্ড সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে আখ্যায়িত করেছে; তেল বিক্রির এর উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশ্য এখানে অস্পষ্ট। তার মুখপাত্র বলেন তারা যুদ্ধ চান না অথচ তারা তেহরানের পরিবর্তনের জন্য গোপনে সকল ধরনের উৎসাহ অব্যাহত রাখছেন।

মার্কিন এই পদক্ষেপ কি বিদ্যমান অবস্থা স্তিতিশীল করতে পারবে? নাকি এটা ইরানের উপর চাপ আরও বাড়ানোর কৌশল? ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা সংসয় প্রকাশ করছেন যে এ রনতরী বাড়ানোর কারনে ভূল বসত: কোন ধরনের সংঘর্ষ বেধে না যায়। ইউএসএস আব্রহাম লিংকন এইবারই প্রথম ভূমধ্য সাগরে পাঠানো হয়নি, এর ফলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে ইরানের সাথে পারমানবিক চুক্তি থেকে সরে আসে যা  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ এর সম্মতিতে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে করা হয়েছিল। চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ করতে সম্মত হয়েছিল এবং নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষনের জন্য আন্তর্জাতিক পরিদর্শককে অনুমতি দিয়ে আসছিল।

গত মাসে হোয়াইট হাউস জানায় যে পাঁচটি দেশ ইরানের কাছ থেকে তেল কিনছে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। দেশ পাচটি হলো চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্ক। এই সময় ইরানের রেভ্যুলুশোনারী গার্ডকে সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসাবে কালো তালিকাভূক্ত করে একে একটি বিদেশী সন্ত্রসী গ্রুপ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিতে মারাত্মক অবনতি ঘটেছে, মুদ্রার মূল্য কমিয়ে আনা হয়েছে, বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার দ্বিগুণ হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দূরে সরিয়েছে এবং বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে।


Leave a Comment